দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্র কাঠামোগত সংস্কার থেকে সরকার সরে এলে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আবারও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আবারও হুমকির মুখে মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘সিজন ও চেয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের মেন্টালিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে। সরকারকে স্ট্রাকচারাল জায়গায় এক হতে হবে। এটি থেকে সরে আসলে চব্বিশ আবারও হবে। কোনো না কোনোভাবে হয়তো সে প্রস্তুতি হচ্ছে। কিন্তু চব্বিশ হবে, মেজরিটি দিয়ে আটকানোর সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘যারা চব্বিশে রাস্তায় নেমেছিল তারা কাউকে এমপি বা উপদেষ্টা বানানোর জন্য নামেনি। তারা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্যই সেই আন্দোলন হয়েছিল।’
রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আগের সিস্টেম অক্ষুণ্ন রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে একই ধরনের শাসক হয়ে উঠতে পারে।’
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে সরকারি দলের কিছু সদস্যের অবস্থানের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যারা আগে ভুক্তভোগী ছিলেন, তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন, যা অসম্মানজনক।’
নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘নির্বাচনের পরে সাধারণ মানুষের কোনো বাস্তব লাভ হয়নি। আমরা চাই রাষ্ট্র জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুক, যাতে মানুষ আর আশাহত না হয়।’
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন রাখার সমালোচনা করা হয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর-আল-মতিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
এমএস/